গত বুধবার প্রতিষ্ঠানটি সর্বশেষ প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল প্রান্তিকে এনভিডিয়ার আয় হয়েছে ৮ হাজার ১৬০ কোটি ডলার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) হার্ডওয়্যারের ব্যাপক চাহিদার কারণে ওয়াল স্ট্রিটের সব পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গেছে এনভিডিয়ার আয়। খবর কোরিয়া হেরাল্ড।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৬ এপ্রিল শেষ হওয়া ২০২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানটির আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৫ শতাংশ বেড়েছে। এর আগের প্রান্তিকের তুলনায় আয় বেড়েছে ২০ শতাংশ।
উল্লেখ্য, এনভিডিয়ার অর্থবছর শুরু হয় ফেব্রুয়ারি থেকে। সে হিসাবে কোম্পানিটির প্রথম প্রান্তিক ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল ধরা হয়। এ তিন মাসে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৩০ কোটি ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৮৮০ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরে মুনাফা বেড়েছে তিন গুণেরও বেশি।
এনভিডিয়ার তৈরি চিপ বা প্রসেসর বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের এআই সিস্টেম পরিচালনায় ব্যবহার হয়। ডেটা সেন্টার ব্যবসাই মূলত এনভিডিয়ার আয়ের চালক হিসেবে কাজ করেছে। প্রথম প্রান্তিকে শুধু ডেটা সেন্টার ব্যবসা থেকেই রেকর্ড ৭ হাজার ৫২০ কোটি ডলার আয় হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৯২ শতাংশ বেশি।
এনভিডিয়ার এ সাফল্যের মূলে রয়েছে জিপিউ বা গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট। এটি এমন একটি বিশেষ চিপ, যা শুরুতে তৈরি হয়েছিল ভিডিও গেমের গ্রাফিকস দ্রুত সচল করার জন্য। তবে এনভিডিয়া এ চিপকে এআই পরিচালনার উপযোগী করে তোলে, যা এনভিডিয়াকে আজ বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানিতে পরিণত করেছে।
ওয়াল স্ট্রিটের ধারণা ছিল, এআই খাতের বিপুল খরচ একসময় হয়তো থমকে যাবে। কিন্তু একাধিক প্রতিবেদন বলছে, বাজারে এনভিডিয়ার পণ্যের চাহিদা এখনো আকাশচুম্বী। গত ফেব্রুয়ারির আয়ের প্রতিবেদনের পর থেকে এনভিডিয়া এআই খাতে একের পর এক বড় বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যানথ্রোপিক কোম্পানিতে ১ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ এবং মেটার সঙ্গে একটি বড় চুক্তি। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এআই সুবিধা চালুর লক্ষ্যে ‘কোরউইভ’ নামের একটি কোম্পানির সঙ্গেও চুক্তি করেছে এনভিডিয়া।
এনভিডিয়ার চলতি প্রান্তিকে (মে-জুলাই) আয় আরো বেড়ে ৯ হাজার ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছবে বলে আশা করছেন কোম্পানিটি-সংশ্লিষ্টরা।
তবে এনভিডিয়ার সাফল্যের মধ্যেও একটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে চীনকে নিয়ে। ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে চীনের বাজারে এনভিডিয়ার মূল পণ্য বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে অনেক দিন ধরেই। ফলে ভবিষ্যৎ আয়ের পূর্বাভাসে চীন থেকে কোনো আয়ের হিসাব ধরেনি কোম্পানিটি।
এদিকে এনভিডিয়ার এ রেকর্ড আয়ের পরও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে খুব একটা উৎসাহ দেখা যায়নি । প্রতিবেদন প্রকাশের পর পরবর্তী ঘণ্টার লেনদেনে এনভিডিয়ার শেয়ারদর ১ শতাংশের বেশি কমেছে।